শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৪

তিনটি কবিতা / সব্যসাচী মজুমদার


মূর্তি

মূর্তি সরিয়ে ফেলতেই পাথর পড়ছে...লাল পাথর
সবুজ পাথর গড়িয়ে নামছে...
      আমাকে থেঁতলে ফেলার মতো পাথর...
নৈঋত মেঘের মতো পাথরে ভরে যাচ্ছে উঠোন...
তুমি মূর্তি লুকিয়ে রেখেছ...খোলা জ্যোৎস্নায়
তোমাকে দেখাচ্ছে মধু শিকারীর মতো...

ছেঁড়া নেংটিতে লেগে হিজলের পাতা
মশালের ছায়া পাঁজরের মতো জমে আছে বুকে
কাউকে না বলে যেন তুমি গেছ মধু শিকারে
তোমাকে ঘিরে ফেলছে শ্বাসমূল...নোনাজল...
দম বন্ধ করে তুমি দেখলে বড় বেদনার মধু ফেটে বেরোচ্ছে
       চোখ ঠিকরে বেরিয়ে এসেছিল তোমার...

বড় মমতায় পাথর পড়ছে মাথার ওপরে... 
রাস্তা নেই...মেঘ উড়ে যাচ্ছে পূর্বে...
রাস্তা নেই...হেরে যাওয়ার শরীর হচ্ছে...

তুমি কাল পাথরের তলায় মরে থাকবে
আমি কাঁদব না...কেবল জল আনতে গিয়ে দেখব
মাটির পৃথিবী জোড়া পাখি...
        শুধু পাখি উড়ে যায়
                দৃশ্য এড়িয়ে...



ডিপ্রেশন ও ব্যক্তিগত

ক্ষতকে কখনওই বিশ্বাস করিনি...
বিশ্বাস করিনি তার অঙ্গভঙ্গী তার ভয় তার বিষিয়ে ওঠা...
আসলে আমারও তো রয়েছে
     একটা রহস‌্যের বাড়ি একটা কংকাল...
অন্ধকার জোড়া রক্তের নালী আছে...

তাজা বিষাদের দলা থুতু করে ফেলি
মাটিতে পড়ার পর তাদের দেখলে মনে হয়
     রাজহাঁস যেন গলা ফুলিয়ে ভেসে যাবে আরেকটু পর...
দৌড়তে থাকা মনখারাপকেও বিশ্বাস করি না...
কেবল মনে হয়, তার শরীরের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসবে
                        পাড়ার কুকুর...

আমার নগ্ন জল ভেঙে দিয়ে চলে যাবে
যেখানে আদর মানে গোলাপি মাংসের ডেলা...



ষাঁড়ের ছবি

     সুরেলা জগৎ তিথি...
আজও রাত্রি মরে গেলে ঝিমিয়ে পড়বে ভাস্কর্য ভিখারী...
ছায়াপথ অথবা মাফিয়া যে কেউ আজ ধরবে...
রাস্তা আটকাবে...খুলে নেবে তাবিজ
    -যা ছিল দ্বন্দ্বমূলক সঙ্ঘারাম...

একটা বৃহত্তর গন্ধ ক্রমশ শরীরের পাশ কাটিয়ে
    হেঁটে যেতে চাইছে তবুও
         সুরেলা জগৎ নাচো...

কিছুটা কঠিন বনতলে পড়ে আছে ঘাতকের ক্ষমা...
    পা ফাঁক করে পড়ে আছে স্থির তমনারী...
         তার শিলা অব্দি জানি...

কাল পাণ্ডুলিপি দিন...
কাল বারবার ঢুকে যাব ষাঁড়ের ছবিতে...

1 টি মন্তব্য: