প্রতিটি সম্ভাবনাই কি শিল্প হয়ে ওঠে? হয় না। কীভাবে কেমনভাবে যেন সে হয়ে ওঠে। আবার হয়ে উঠতে উঠতে হারিয়েও যায় বেশিরভাগ সময়। রসিক জানে রসের হাঁড়ি তার কোথায় বাঁধা। ভেতর থেকে কাঙাল না হলে সে রসের স্বাদ পাওয়া যায় না। আলাদীনের আশ্চর্য প্রদীপের মধ্যে থেকে বেরিয়ে আসে সে। কেবল অপার বিস্ময়ে শুধু তার অস্তিত্ব অনুভব করতে পারি। কানে কানে বলে দেয়, এইবার থামো। তারপর শুধু তাকে নিয়ে দিনরাত, আবার যতক্ষণ না আরেকটা ঢেউ এসে তোলপাড় করে দিচ্ছে। হাওয়া আমাদের দোলা দেয়। উড়িয়ে নিয়ে যায়। তাকে আমরা দেখতে পাই না। কেবল বুঝতে পারি, তার উপস্থিতি। যেমনভাবে বীজ থেকে মহীরুহ তৈরি হয়। হামাগুড়ি দিতে দিতে শিশু একদিন হঠাৎ দাঁড়িয়ে ওঠে যেভাবে। বিস্ময়ের এই অনন্ত খনির ভেতর আমার বেঁচে থাকা। আমার মুক্তি। যার পথ নির্দেশ করে আমার ছবির ভাষারূপ। নান্দনিক অভিকর্ষের দিকে চৈতন্যের যে অভিযান, তার সন্ধানই আমাকে নন্দিত করে। এই নান্দনিক যাত্রা আমার একান্ত নিজস্ব, নিজের সঙ্গে নিজের কথোপকথন। আমার ছবির ভাষা সেই চুপিসারে একলা মনের অভিসার, যার ভরবেগের কেন্দ্র জীবন ও তার দ্যোতনা। প্রতিদিনের, প্রতিমুহূর্তের সৃষ্টির সম্ভাবনা, তার টানাপোড়েন, চোরাস্রোতের মতো বয়ে যায় আমার ক্যানভাসে। বিমূর্ত অভিব্যক্তির আড়ালে টুকরো টুকরো সময়, অনুভূতি, ব্যক্তিমনের কোলাজ, খোলা এক আলপথ রচনা করে। ব্যক্তি আমি ও সেই আমি একাকার হয়ে ওঠে। রূপের আড়ালে খেলা করে তার সুরের বিন্যাস। আলো অন্ধকারের দ্বন্দ্ব। নিজেকে অতিক্রম করার নিরবচ্ছিন্ন প্রয়াস।
শিল্প তাহলে
কী? কী এমন বিষম বস্তু যা আমাকে প্রতিটা মুহূর্তে আক্রান্ত করে। যার স্পর্শ না পেলে
মনখারাপ হয়ে যায়। আমার অস্তিত্বের, শ্বাসপ্রশ্বাসের নির্ঘন্ট যার সঙ্গে বাঁধা। আসলে
শিল্প হল আত্মারামের প্রদীপ, যা জন্মমুহূর্ত থেকে জ্বলে উঠেছে ভেতরঘরে। আর দিনরাত এক
করে সমস্ত জীবন দিয়ে শুধু দীপের শিখাটুকু আগলে রাখা। শিল্প হল পঞ্চভূতের পাহারাদার।
অনুভবের ডায়রি। আমার বেঁচে থাকার আকাশ।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন