‘আগে থেকে গরীব থাকা গরীব আর পরবর্তীতে
গরীব হইয়া যাওয়া গরীব—
এ দুই
ক্যাটাগরির গরীবের মধ্যে পার্থক্য কী জানো?’ আমারে দেড়ঘণ্টা দাঁড় করাইয়া রাইখা
আইসাই প্রথমে এ কথা জিগাইলো শাহেন শাহ। মেজাজ খারাপ ছিল এমনিতেই। আর আটকে রাখা গেল না। আমি শাহেনকে ধরে পিটাইতে
শুরু করলাম। ‘বললা না, পার্থক্য কী!’ ‘ছিঃ শাহেন! মাইর খাইতে খাইতেও একই কথা?’ ‘হ! আমি মাইর খাইতে খাইতেও
আনমনে একই কথা বললে তোমার সমস্যা কী? তুমিও
মারতে মারতেই বলো! কী পার্থক্য?’
তখনই দুলাল
ভাইও আগায়ে আসল,
বলল, ‘থাক আফা, আর মাইরেন না, মইরা যাইবো। আমি ওরে পিটানো থামাইয়া
বেতটা ব্যাগের ভিতর ঢুকাইয়া রাখি।
গত জন্মদিনে এই বেত শাহেন শাহই আমারে
গিফট করছিল। সেইদিনের
কথা, অথচ কয়েক মাসেই কী অবস্থা
কইরা ফেলছে বেতটার! ‘চা খাবা?’ বিমর্ষ শাহেন মাথা তুলে
তাকায়, ‘হুম খাবো, ব্যবস্থা করো!’ বলে সুন্দর করে হাসে। এ হাসি দেখলে বেশি মায়া
লাগে, আমি চোখ ফিরায়ে নিই। ‘দুলাল ভাই, তিনটা চা দাও’। কিন্তু শাহেন জানতে চায় না
অতিরিক্ত একটা চায়ের অর্ডার কার জন্য। এমন না যে ও জানতে চায় না, ঠিকই চায়, জিগায় না কেন? মেজাজ খারাপ লাগে। ‘ওই! চেইন লাগা, পোস্ট অফিস খোলা রাইখা ঘুরিস ক্যান?’ ‘ওহ!’ বইলাই তড়িঘড়ি কইরা চেইনে টান মারে, আর তাতে কী না কী হয় কে জানে— শাহেন শাহ বিকট চিৎকার পাইড়া ওঠে। ‘কী হইল!’ ‘আঃ আঃ আঃ’ ‘হুম, তো?’ ‘ইঃ ইঃ ইঃ’ ‘আটকায়ে গেছে?’ ‘হুম!’ ‘কী আটকাইছে?’ ‘ছিঃ ছিঃ এগুলা কী জিগাও? আঃ আঃ’ আমি কইলাম, ‘নিচে নামাও একটু, ছুটে যাবে।’ ‘উহু উহু! একটু নড়লেই ছিঁড়ে
যাবে!’ মানা করে সে। ‘বলছে তোমারে, নামাও নিচে!’ ‘না না।’ বললাম যে আচ্ছা, ‘ছিঁড়ে গেলে যাক, তুমি নামাও!’ শাহেন তো অবাক! বলে, ‘হোয়াট! লেসবিয়ান নাকি তুমি?’ হা হা হাসি পায় আমার। ডানে বামে তাকায়ে দেখি, আর শাহেন কিছু বুঝে ওঠার আগেই ওইটা টান
মাইরা আনজিপ করি।
‘ছিঃ ছিঃ এত বড় হইছিস, এখনো ভেতরেরটা পরিস না!’ শাহেন আমার দিকে পিটপিট কইরা তাকায়ে
থাকে। ঘটনার
আকস্মিকতা কাটে নাই নাকি ওর?
‘বেশি বড় না
তো!’ বলেই হাত মেইলা বসতে গিয়া
অতিরিক্ত কাপটা চা সুদ্ধা ফালায়ে দিল, সেই
চা আবার গড়াইয়া ওরই প্যান্টের পেছনের পকেটে ঢুকল। ‘আহ!’— যন্ত্রণায় চোখ বুঁজে ফেলল শাহেন শাহটা
আমার। থিতু
হয়ে আমারে জিগায়,
‘এবার কি
প্যান্ট চিপে চা ঝরাবা?’
‘ওলে আমাল
বাচ্চা! আয় আয়!’
আমি তো ওরে
ডাইকা ফেলি এরকমের সন্ধ্যা হয়হয়বেলায়। ডাইকাই বুঝতে পারি ভুল করছি। ফুল প্যাকেজের একটা কুত্তার
বাচ্চা সে, আদর সোহাগ পাওয়ার কোনো
যোগ্যতাই নাই ওর। এদিকে, ‘র’ রে ‘ল’ বলছি জন্য শাহেন শাহ খুশি হইছে। হাসিহাসি মুখে দুলাল ভাইয়ের
কাছে হেল্প নিতে গেছে। দুলাল
ভাই ওর পেছনের দিক ভিজাইতে ভিজাইতে পানি ঢালতেছে, আর সে হচ্ছে, হাত দিয়া প্যান্টের ব্যাক পকেট ঘষতেছে।
আমি ষড়যন্ত্র কইরা আইফোনটা দিয়া এ
দৃশ্যের স্ন্যাপ নিয়া ফেলি। এ
ছবি ফেসবুকে আপলোড করার ভয় দেখাইতে হবে ওরে। ওরে ভয় দেখানোর চেয়ে বেশি আনন্দ
পৃথিবীর আর কিছুতে নাই। আমার
শাহেন শাহ ভয় পায়,
নার্ভাস পায়, আতঙ্ক পায়— তাতেই আমার সুখ। ফিরা আইসা বলে, ‘তলো, আমলা ওইকানে দাই গা!’ তর্জনির দিকে তাকাইয়া দেখি সেটা বেশ
অনেকটা দূরের একটা ঝোপ অভিমুখে নিবন্ধিত হইয়া আছে। ‘হারামজাদা একটা! বসো এখানে, বইসা হাত পাতো।’ ‘আবারও মারবা?’— করুণ দেখায় ওরে। আমি হাত টাইনা ধরে ওরে পাশে
বসাই। মাথা
নিচু কইরা লক্ষ্মী ছেলের মতো বইসা থাকে শাহেন শাহ। একটু আমারে দেখে। পরে আবার মাথা নিচু। বলে, ‘বললা না তো!’ ‘কী বললাম না তো?’ ঘুইরা আমার দিকে চোখ থাকে
কইরা বসে, ‘ওই যে, আগে থেকে গরীব থাকা গরীব আর পরবর্তীতে
গরীব হইয়া যাওয়া গরীবের মধ্যে পার্থক্য কী, সেটা।’ সেই কোন পিটানোর আগের প্রসঙ্গ এখনও মনে
রাখছে দেইখা আমিও একটু গুরুত্ব দিতে চাইলাম। ‘কেন বলো তো! কী হইছে?’ ‘আরে এমনেই, জানতে মন চাইতেছে তুমি কীভাবে দেখো বিষয়টারে।’ কিন্তু আমি কীভাবে দেখি বিষয়টারে, তা তো আমি দেইখা দেখি নাই কখনও। তবু বলি, ‘পার্থক্য হইলো স্মৃতির। পরে গরীব হওয়াদের হয়তো আগে
স্বচ্ছল থাকার স্মৃতিটা থাকে,
যেটা আগের
গরীবদের থাকে না।’
‘আর এই স্মৃতির সঞ্চয় কি তাদেরকে আরো
গরীব কইরা তোলে?’—
শাহেন শাহ
এগুলা কী যে জিগায়! সঞ্চয় তো মানুষরে ধনী কইরা তোলে বলেই জানি। কিন্তু কেন এসব জিগায়, জানা দরকার? ওর পারিবারিক অর্থনৈতিক সমস্যা আছে
বইলা শুনছিলাম। শাহেন
তো আমার আরেকদিকে তাকায়া আছে! কী দেখে সে? ওই বরাবর দৃষ্টি নিক্ষেপ কইরা দেখা গেল, এক ভিক্ষুক দম্পতি এই ভর সন্ধ্যা
হয়হয়বেলায় থালা বাসন নিয়া ভাত খাওয়ার আয়োজন করতেছে। ‘কী হইছে আব্বু? এদিক ফির তো!’— আমার শাহেন শাহরে আমি ধরি। সে হাসে, হাসিখানা এক্কেরে ভেজালমার্কা, বোঝা যায় নকল হাসি— ম্যাজিস্ট্রেট রোকন উদ্দিনের সামনে এই
হাসি দিলে নির্ঘাত ভেজাল অভিযানে আটকা পড়ত। ‘অ্যাঃ অ্যাঃ অ্যাঃ তুমি এত্তা পতা’ বইলাই হাউমাউ কইরা কানতে শুরু করে
শাহেন।
পরে আবার ঠিক হইয়া যায়। আমারে কয়েক প্যাকেট সিগারেট
কিনা দিতে বলে। ‘বুঝলা? সস্তারগুলা টানতে পারি না। কাশি হয়।’ হুম, ‘আমি বুঝছি বাবু, দিব কিনে।’ ‘এত্তগুলা কিনা দিও, আচ্ছা?’ যেখানে আমি ওর সিগারেট খাওয়াই পছন্দ
করি না, সেখানে দুনিয়ার সব সিগারেট
ওরে কিনা দিতে ইচ্ছা করতে থাকে। ‘বাড়িঘরের খবর কী? সব ঠিকঠাক তো?’— জিগাই। জবাবে দুলাল ভাইয়ের অর্ধেক খাওয়া
সিগারেটে ভাগ বসাইতে এই-সেই করে। সফল
হয়ে ফিরা আসে,
‘তোমার
হাড্ডিগুলা কই রাখছ রাধা?’
হা হা হাসি
পায় আবার। ‘আমি রাধা হইলাম কবে!’ ‘হওনাই?’ ‘না, আমি মুসলমানের বেটি, রাধা হব কোন দুঃখে?’— কথা নাই, বার্তা নাই হুট কইরা কীসের মধ্যে উষ্ঠা খাইয়া শাহেন শাহ
মাটিতে পইড়া গেল। আমি
কিছু বুঝিও নাই ঘটনা,
দেখি যে সামনে
মানুষ নাই! ‘আঃ’— শুইনা নিচে তাকাইয়া দেখি এই অবস্থা। ‘থাক থাক, এমনেই থাক, উঠিস না!’ ওরে উঠতে মানা কইরা আমি ব্যাগ থেকে বেত
বাইর করি। ‘ওই! মারবা এখন?’— মুখ তুলে জিজ্ঞেস করে সে। আমি তো মারবই! মুমূর্ষু
মানুষরে মারার শখ আমার কতদিনের! ‘হি হি, দিনে দুপুরে উষ্ঠা খাইয়া পড়বা আর মাইর
খাবা না, তা হয় না।’ ‘দিন দুপুর কই পাইলা? গভীর সন্ধ্যা!’ যাই হোক না, আমার শাহেন শাহরে আমার পিটাইতে মন চায়
শুধু— কী করতে পারি আমি?
কিন্তু পিটানো শুরু করা মাত্রই কবি
আলবেয়ার হোসেন আইসা পড়লেন। শাহেন
ঘাড় ঘুরায়ে তাকে দেখার চেষ্টা করল। ‘হাই আলবেয়ার ভাই! কী মনে
করেন?’ ‘ঘাড়ের এক্সরে করাইতে হবে
জগতে’— বললেন আলবেয়ার। আমিও আলবেয়াররে জিগাইলাম যে, ‘কী মনে করেন, হাই আলবেয়ার ভাই!’ ‘পৃথিবীতে ঘাড়, ওকে?’— আলবেয়ারকে উত্তেজিত মনে হল। শাহেন উইঠা আইসা আমার কোলে মাথা
রাইখা পাইপের মধ্যে শুইয়া পড়ল,
‘পাইপের মধ্যে
কী মনে করেন আলবেয়ার?’
আমিও সম্মতি
দিই, ‘হ হ! সত্যিই তো, এই যে কবি আলবেয়ার হোসেন, পাইপের মধ্যে কী মনে করেন আপনে?’ ‘ঘাড় এক্সরে করাইতে হবে, মেরুদণ্ড এক্সরে করাইতে হবে। পরে জমা দিতে হবে।’— আলবেয়ার কবি জানান। ‘কোতায় জমা দিতে চান?’— দুলাল ভাইয়ের প্রশ্ন। ‘নমুনা পাঠাতে হবে, নমুনা পাঠাতে হবে’ বলতে বলতে আলবেয়ার বিদায় নেন।
‘তু মেরা শাহজাদী!’— বইলা শরমে আমার কোলেই মুখ
লুকাইয়া ফেলে শাহেন। ‘আরে আরে বুঝছি তো শরম পাইছ, তাই বইলা এত ভিতরে লুকাইও না প্লিজ!’ ‘উহুমবববভভ...’— কী কয় কিছুই শুনি না, শুধু উরুর মধ্যে গরম লাগে দশা হয় আমার। ‘ওই! ওঠ!’— ঘাড়ের কলার ধইরা টান দিই। চাপাকণ্ঠে অত্যন্ত
রোমান্টিকভাবে বলার চেষ্টার করি যে, ‘এই!
লোকে দেখে তো! দোকানে আরো আরো লোক আছে না বাবা? দেখো!’ তাতে কাজ হয়। শাহেন উইঠা বসে। কিন্তু একটা হাত আমার কোলেই
বোধহয় ফালাইয়া রাখতে চায়। আমিও
প্রশ্রয় দিই। ‘সিগারেট খাবা?’ জিজ্ঞাস করলে মুহূর্তেই হাত
তুইলা দাঁড়ায় সে। ‘সঙ্গে একটু চা হলে ভালো’— জানায়। আমি ওরে হাত তোলা অবস্থাতেই
সিগারেট খাইতে দিই,
‘কিন্তু চা
খাইতে হবে না আর।’
‘আচ্ছা আমি কি
হাত তোলা অবস্থায় তোমারে নিয়া একটু হাঁইটা আসতে পারি?’— জিগায়। আমরা হাঁটতে বাইর হই। ‘হাত নামা গাধা’— কয়েকবার বললেও শাহেন তা নামায় না। ‘কী ব্যাপার, বগলে ঘা হইছে নাকি আপনার?’— মিতু হারামিটা তার দলবল নিয়া হাসতে
থাকে। ‘না না, এই শোনেন মিতু! বগলে
ঘা হয় নাই তো!’— গাধাটা আবার রেসপন্সও
করতেছে। ‘তাইলে বগল মেলে হাঁটতেছেন
যে!’ ‘এমনেই, হাওয়া বাতাস নিয়া
ঘোরাফেরার চেষ্টা আর কি!’— কথা বলতে বলতে হাত নামায়া
ফেলে শাহেন। আমার উপস্থিতিরে অগ্রাহ্য করে কুত্তাটা, বাই ডিফল্টলি মিতুর সঙ্গে কথা
বলতে থাকে। ‘হাওয়া বাতাস আর কই পাবেন,
লগে জেলখানা নিয়া ঘুরতেছেন!’— মিতু হারামির সাহস কত!
ভাগ্যিস যে, আমি ওর সাথে কথা কই না! নইলে সাংঘাতিক ঝগড়া হইত।
‘এই আয় তো!’ বইলা শাহেন শাহরে তাড়া দিই। ‘যাই গা মিতু, কুশলে থাইকেন’— হারামিটা স্মার্টলি বিদায় নিতেছে,
আজকে একটা মাইরও মাটিতে পড়বে বইলা মনে হয় না। ‘সোজা এদিকে আয়’— টিএসসির দিকে যাইতে থাকি ওরে নিয়া। কী
হয় কিছুই কইতে পারি না, কুত্তার বাচ্চাটারে মাইরা ফেলব নাকি আজকেই? ‘ড্রাইভার কাকা, আপনে একটু বাইরে যান
তো, যান, চা বিড়ি খান গা’— ড্রাইভাররে বাইর কইরা
ধাক্কা দিয়া শাহেন শাহরে গাড়িতে ঢুকাই। ‘মিতুর
সাথে ব্যাপারটা কী তোর? জানোস না আমি ওরে দুই চোখে দেখতে পারি না?’— ‘আরে ও আমার বন্ধু মানুষ!’— ‘আচ্ছা? তাই নাকি! তুই বলিস
নাই ওরে দেখলে তোর নারী নারী লাগে, কী কী সব প্রতিক্রিয়া ঘটে? প্রতিক্রিয়াজীবীর
সাথে কীসের বন্ধুত্ব!’— ‘এখন আর হয় না তো! সেগুলা তো
আগের কথা।’— ‘এখন আর হয় না তো? ওকে!
জিপার খুইলা দেখা কুত্তার বাচ্চা।’
‘তোমার না আমারে গাড়ি চালানো শিখানোর
কথা?’— ‘হুম, শিখাবো।’— ‘তাড়াতাড়ি শিখাইয়ো, পরে একটা
ইয়োলো ক্যাব ভাড়া নিয়া দিও।’—
‘ইয়োলো ক্যাব
দিয়া কী করবা?’—
‘চালাব, ভাড়া
খাটাব।’— ‘টেক্সি ড্রাইভার হবা?’— ‘হু।’— ‘মেয়েদেরকে আনা-নেওয়া করবা
খালি?’— ‘হুম, খালি আনা-নেওয়া করব,
আর কিছু করব না।’—
‘আনা-নেওয়াই
বা করবা কেন?’—
‘কারণ তারা
আসা যাওয়া করবে!’—
‘তারা কোথায়
আসা যাওয়া করবে?’—
‘একখান থেকে
আরেকখানে।’— ‘কেন তারা একখান থেকে
আরেকখানে আসা যাওয়া করবে?’—
‘কারণ আমার
আনা-নেওয়ার ব্যবসা।’—
‘মিতুরেও
আনা-নেওয়া করবা?’—
‘ওর তো
প্রাইভেট কার নাই। করতে হইতে পারে।’— ‘আমার
তো প্রাইভেট কার আছে, আমারে আনা-নেওয়া করবা না?’— ‘তোমার তো প্রাইভেট কার আছে!’— ‘মিতুর তো প্রাইভেট কার নাই?’— ‘নাই।’— ‘মিতুরে খালি আনা-নেওয়া
করবা?’— ‘হুম খালি আনা-নেওয়াই করব,
আর কিছু করব না।’—
‘মিতুরেই খালি
আনা-নেওয়া করবা!’—
‘উহুঁ,
মিতুরেও খালি আনা-নেওয়াই করব।’—
‘ওলে আমার
চালাক চতুর কুত্তার বাচ্চা!’—
‘বারেকের চা
তো আমি ইচ্ছা কইরা ফালাইছি।’—
‘আর আমি
ভাবতেছিলাম বাড়তি চা কার জন্য তা জিগাও না কেন!’— ‘জিগানোর কী আছে? জানিই তো!’— ‘লাগ হইতো বাবা?’— ‘উহুঁ।’— ‘মারতিলাম জন্য রাগ কত্তো?’— ‘উহুঁ।’— ‘এই দে বেত, ধলো, এবাল আমালে
মালো!’— ‘নাঃ মাব্বো নাঃ!’— ‘মালো না বাপস, প্লিত আমালে
মালো!’— ‘আমলা অনেক গলীব হইয়া গেসি,
আমালে ইয়োলো ক্যাব কিনা দিও।’—
‘ইয়োলো ক্যাব
চালাবা খালি?’—
‘হু।’— ‘চাবি ঢুকাবা আর চালাইতে
শুরু করবা?’—
‘হু।’— ‘চাবি ঢুকাবা আর চালাইতে
শুরু করবা, ইয়োলো ক্যাব?’—
‘হুম।’— ‘মানে জাস্ট চাবি ঢুকাবা,
দ্যান চালাইতে শুরু করবা!’—
‘আরে হ!’— ‘সত্যিই তুমি শুধু চাবি
ঢুকাবা আর চালাইতে শুরু করবা!’—
‘ইয়েপ ইয়েপ
ইয়েপ!’— ‘আরেকটু জোরে চালাবা প্লিজ!’
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন