১
আমি আছি এটা ভাবতে ভাবতে তোমায় দখল করি। চলার
রাস্তা, বসার চেয়ার, শোবার খাট দখল
করতে করতে গোটা সুন্দরবন খালি করে ফেলি। আমি আছি এটা প্রমাণ করতেই হয়। ঘরে আলো
জ্বেলে রুটি করতে হয়। গত পাঁচদিন কলতলায় জল না পড়লে পুলিশে খবর দেওয়া হয় আমি নেই। পুলিশ
দরজা শিল করে দেয়। সে ঘর বিক্রি হয় যারা প্রমাণ করবে তারা আছে। ছাদে যারা
ফুলবাগান চাষ করবে। পুকুরে মাছ চাষ করবে। এসব প্রমাণিত হলে তোমার পেঙ্গুইন মরে।
মনের দেবদারু মরে। অথচ অরণ্যের কোনও কলতলা নেই। উনুন নেই। কাঠঠোকরা গোটা
দুপুর নিয়ে আজও দাঁড়ায়। তেমন অশত্থ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছ বহুবছর হল। অজস্র বাদুর নিয়ে ঝুলে আছ পূর্ণিমায়। কখনও প্রমাণ করতে
হয় না এত প্রাণ নিয়ে তুমি বেঁচে আছ। অথচ আমি নেই প্রমাণ হবে আজ থেকে দশবছর শব্দ
না করলে। ঘরে চিঠি না লিখলে। আমার ঘর বাজেয়াপ্ত হলে প্রমাণ হবে আমি নেই। আমার ফাঁকা নেই।
২
সবার জীবনে নিজস্ব ফাঁকা আছে। সেখানে অনুমতিও ঢুকতে পারে না। রক্তের রিপোর্ট ভাল হলে সেই ফাঁকা প্রয়োজন। আদরের মানুষ জড়িয়ে ধরলে ওই যে হাত দুটো বুক থেকে ফাঁক করো। শুভশ্রীকে জায়গা করে দাও। এই হাত বাড়ানোর জন্যেও অনেকটা ফাঁকা চাই। পায়ে কাচের বোতল ঢুকে গেলে যন্ত্রণায় কাতরাবার ফাঁকা চাই। অন্ধকার ঘরে চাবি খুঁজলে ফাঁকায় হাতড়াতে হয়। এটুকু ফুরিয়ে গেলে দেখি স্বচ্ছ বরফের ভেতর একটা মাছি জমে গেছে। বরফ এতটাই উজ্বল মাছি বুঝলনা ডানা ঝাড়বার ফাঁকাটি বরফ কেড়ে নিল। ভালবাসা যেমন পা ফাঁক করে বসে থাকে। এই ফাঁকটুকু তাকে লিঙ্গ নাড়াচাড়ার সুযোগ দেয়। একে কেউ কেউ অভাব ভেবে ভুল করে। ফাঁকা আলমারি ব্রোঞ্জের মূর্তি দিয়ে সাজায়। ভুল মানুষকে কাছে ডাকে। বলে ভালবেসে অভাব পূরণ করতে। অথচ এটুকু ফাঁকের জন্য শুভশ্রী পা ফাঁক করে। সন্তানের জন্ম দেয়। এটুকু বুজিয়ে দেওয়ার অনুমতি কারুর নেই। তবু নদী বুজিয়ে মানুষ ঘরবাড়ি করে। বিয়ের অনুষ্ঠান করে। আর যে সব মানুষ এই ভিড় ছেড়ে ফাঁকা স্টেশনের দিকে চলে যায়। দূর থেকে দেখে কেউ কেউ বলে মানুষটার কেউ নেই।
৩
এই দেখাটা আমার অভ্যাস। আমি অভ্যাসের শ্রমিক। এমনকী যে দিকটা তোমার বলে দাবি করছ এই সমস্যায় আমিও পড়েছি। তখন সোজাসুজি লেডিস সিট ছিল। খালি বাসে এই সুযোগ আসেই। মুখোমুখি বসা যায়। ঘুম না পেলে সোজাসুজি তাকাতে হয়। ফলের দোকান দেখার নাটক করতে হয়। শুভশ্রীর মা অভিযোগ করে আমি ওর মেয়ের দিকে দেখছি। আসন তবে এ ভাবেও দখল হয়। জানলার বাইরে ফুটপাত দেখলে। ছেলেটার বুট পালিশ দেখলে ওর বাবা ভাবে আমি গলার দিকে তাকিয়ে। যেখানে সোনার হারও নেই। পুরনো বাসের জানলা এরকম। গ্রীবাটুকু জানলার কাছাকাছি। দু একটা চুল লেগে থাকে ঘামে। আমি সেসব এড়িয়ে রবীন্দ্রসদন দেখতে পাই না। ট্রাফিক সিগনাল দেখতে পাইনা। লাজুক শব্দকে আর একটা জোড়ালো শব্দ যেমন ডোমিনেট করে। ব্রীজ গুলো ডোমিনেট করতে করতে গোটা বাস নেকলেসের দোকানে থামে। এত বড় বড় নাটকের পোস্টার। জাতিস্মরের বিজ্ঞাপন। কলেজ স্ট্রিট মাত্র ওটুকু গলায় আটকে গেল। এত জনজীবন মানুষের অসুখ মেয়েটার গলা ক্রীতদাস করে ফেলল।
৪
অথচ একহাত দূরে তোমার মুখ দেখা যায় না। এটা অন্ধকারের পক্ষে সম্ভব। তবু গ্রামে গঞ্জে মানুষ মাঠে বসে কথা কয়। যদিও কেউ কাউকে দেখতে পায় না। আমরাও উজ্বল আলোর খুব কাছে আসার চেষ্টা করি। পোকা যেমন ঝাঁপিয়ে পড়ে সর্বস্ব মুখ নিয়ে। মুখ পুড়ে পা উল্টে পড়ে থাকে হ্যারিকেন নিভে গেলে। তেমন গ্রামেগঞ্জে এখনও মাঠ আছে আল আছে। যার অন্ধকারে বসলে শুভশ্রীর মুখ দেখা যায় না। গোঙানি শুনে বলে মেয়েটা গলায় দড়ি দিয়েছে। আর সবাই টর্চ জ্বালিয়ে শুভশ্রীর জিভ বের করা মুখ দেখে আঁতকে ওঠে। এটা আলোর পক্ষেই সম্ভব। বিদায়ের মুখ দেখিয়ে যাওয়া।
৫
আজ বিদায় জড়িয়ে বসে আছি। আকাশে মেঘ নেই। জানলায় মাকড়শা নেই। আলিআকবর বুকে রাগা ভৈরবী নামালেন এইমাত্র। সেতার খুঁড়ে বের করলেন এ সমস্ত বিদায়। তেমন কোনও মুখ নেই। বয়স নয়। এই দেবদারুর সাথে সন্ধের। চুবড়ির কাছে মাছের। সুরজিতের কাছে মিলি। এমন বহু বিদায় আলিআকবর সেতারে নামান। চাঁদ পড়ান। টগর গাছ তার ফুল ঝরার কায়দা দিয়ে উঠোন সাজায়। অজয়ের বাবা মারা যায়। অজয় তবলা বাজানোর শ্রম দিয়ে কাঠ চেলাই করে। এসব যত্ন আলিআকবর সেতারে ফেরালেন। ফিরে আসার জন্য নয়। দীর্ঘশ্বাস তার বুড়িবসন্ত খেলা বিদায় জানায়। গোবোর লাঠি গ্রাম ছেড়ে চলে যায় নির্বাসনে। মেসের নির্বাসন ঘিরে আলিআকবর রেডিওর গল্প বলে। নতুনদাদু আকাশবাণীর খবর শোনে। পাড়ার কুকুর যে সব ভোঁদর দেখে আঁতকে ওঠে। তাদের জড়িয়ে বসে আছি। তেমন কোনও মুখ নেই। বয়স নয়। স্কুলে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার অপরাধ। জসীম উদ্দিনের কবিতা। এ সব শোনাতে শোনাতে বিদায় জানায় শুভশ্রী।
২
সবার জীবনে নিজস্ব ফাঁকা আছে। সেখানে অনুমতিও ঢুকতে পারে না। রক্তের রিপোর্ট ভাল হলে সেই ফাঁকা প্রয়োজন। আদরের মানুষ জড়িয়ে ধরলে ওই যে হাত দুটো বুক থেকে ফাঁক করো। শুভশ্রীকে জায়গা করে দাও। এই হাত বাড়ানোর জন্যেও অনেকটা ফাঁকা চাই। পায়ে কাচের বোতল ঢুকে গেলে যন্ত্রণায় কাতরাবার ফাঁকা চাই। অন্ধকার ঘরে চাবি খুঁজলে ফাঁকায় হাতড়াতে হয়। এটুকু ফুরিয়ে গেলে দেখি স্বচ্ছ বরফের ভেতর একটা মাছি জমে গেছে। বরফ এতটাই উজ্বল মাছি বুঝলনা ডানা ঝাড়বার ফাঁকাটি বরফ কেড়ে নিল। ভালবাসা যেমন পা ফাঁক করে বসে থাকে। এই ফাঁকটুকু তাকে লিঙ্গ নাড়াচাড়ার সুযোগ দেয়। একে কেউ কেউ অভাব ভেবে ভুল করে। ফাঁকা আলমারি ব্রোঞ্জের মূর্তি দিয়ে সাজায়। ভুল মানুষকে কাছে ডাকে। বলে ভালবেসে অভাব পূরণ করতে। অথচ এটুকু ফাঁকের জন্য শুভশ্রী পা ফাঁক করে। সন্তানের জন্ম দেয়। এটুকু বুজিয়ে দেওয়ার অনুমতি কারুর নেই। তবু নদী বুজিয়ে মানুষ ঘরবাড়ি করে। বিয়ের অনুষ্ঠান করে। আর যে সব মানুষ এই ভিড় ছেড়ে ফাঁকা স্টেশনের দিকে চলে যায়। দূর থেকে দেখে কেউ কেউ বলে মানুষটার কেউ নেই।
৩
এই দেখাটা আমার অভ্যাস। আমি অভ্যাসের শ্রমিক। এমনকী যে দিকটা তোমার বলে দাবি করছ এই সমস্যায় আমিও পড়েছি। তখন সোজাসুজি লেডিস সিট ছিল। খালি বাসে এই সুযোগ আসেই। মুখোমুখি বসা যায়। ঘুম না পেলে সোজাসুজি তাকাতে হয়। ফলের দোকান দেখার নাটক করতে হয়। শুভশ্রীর মা অভিযোগ করে আমি ওর মেয়ের দিকে দেখছি। আসন তবে এ ভাবেও দখল হয়। জানলার বাইরে ফুটপাত দেখলে। ছেলেটার বুট পালিশ দেখলে ওর বাবা ভাবে আমি গলার দিকে তাকিয়ে। যেখানে সোনার হারও নেই। পুরনো বাসের জানলা এরকম। গ্রীবাটুকু জানলার কাছাকাছি। দু একটা চুল লেগে থাকে ঘামে। আমি সেসব এড়িয়ে রবীন্দ্রসদন দেখতে পাই না। ট্রাফিক সিগনাল দেখতে পাইনা। লাজুক শব্দকে আর একটা জোড়ালো শব্দ যেমন ডোমিনেট করে। ব্রীজ গুলো ডোমিনেট করতে করতে গোটা বাস নেকলেসের দোকানে থামে। এত বড় বড় নাটকের পোস্টার। জাতিস্মরের বিজ্ঞাপন। কলেজ স্ট্রিট মাত্র ওটুকু গলায় আটকে গেল। এত জনজীবন মানুষের অসুখ মেয়েটার গলা ক্রীতদাস করে ফেলল।
৪
অথচ একহাত দূরে তোমার মুখ দেখা যায় না। এটা অন্ধকারের পক্ষে সম্ভব। তবু গ্রামে গঞ্জে মানুষ মাঠে বসে কথা কয়। যদিও কেউ কাউকে দেখতে পায় না। আমরাও উজ্বল আলোর খুব কাছে আসার চেষ্টা করি। পোকা যেমন ঝাঁপিয়ে পড়ে সর্বস্ব মুখ নিয়ে। মুখ পুড়ে পা উল্টে পড়ে থাকে হ্যারিকেন নিভে গেলে। তেমন গ্রামেগঞ্জে এখনও মাঠ আছে আল আছে। যার অন্ধকারে বসলে শুভশ্রীর মুখ দেখা যায় না। গোঙানি শুনে বলে মেয়েটা গলায় দড়ি দিয়েছে। আর সবাই টর্চ জ্বালিয়ে শুভশ্রীর জিভ বের করা মুখ দেখে আঁতকে ওঠে। এটা আলোর পক্ষেই সম্ভব। বিদায়ের মুখ দেখিয়ে যাওয়া।
৫
আজ বিদায় জড়িয়ে বসে আছি। আকাশে মেঘ নেই। জানলায় মাকড়শা নেই। আলিআকবর বুকে রাগা ভৈরবী নামালেন এইমাত্র। সেতার খুঁড়ে বের করলেন এ সমস্ত বিদায়। তেমন কোনও মুখ নেই। বয়স নয়। এই দেবদারুর সাথে সন্ধের। চুবড়ির কাছে মাছের। সুরজিতের কাছে মিলি। এমন বহু বিদায় আলিআকবর সেতারে নামান। চাঁদ পড়ান। টগর গাছ তার ফুল ঝরার কায়দা দিয়ে উঠোন সাজায়। অজয়ের বাবা মারা যায়। অজয় তবলা বাজানোর শ্রম দিয়ে কাঠ চেলাই করে। এসব যত্ন আলিআকবর সেতারে ফেরালেন। ফিরে আসার জন্য নয়। দীর্ঘশ্বাস তার বুড়িবসন্ত খেলা বিদায় জানায়। গোবোর লাঠি গ্রাম ছেড়ে চলে যায় নির্বাসনে। মেসের নির্বাসন ঘিরে আলিআকবর রেডিওর গল্প বলে। নতুনদাদু আকাশবাণীর খবর শোনে। পাড়ার কুকুর যে সব ভোঁদর দেখে আঁতকে ওঠে। তাদের জড়িয়ে বসে আছি। তেমন কোনও মুখ নেই। বয়স নয়। স্কুলে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার অপরাধ। জসীম উদ্দিনের কবিতা। এ সব শোনাতে শোনাতে বিদায় জানায় শুভশ্রী।
ভাষাহীন। বরং, এই মুক্ত কবিতার সামনে টুপি খুলে বসে থাকি কিছুক্ষণ!
উত্তরমুছুন