রঙিন আলপনা
আমার জানালা খোলাই ছিল–
মৌসুমী সন্ধ্যা এল তারপরে শুধু
খানিক চায়ের ধোঁয়া একটু ফুরোতে
বিদ্যুতে বৃষ্টিতে তীব্র লুটোপুটি
মাকুন্দরঙের এক যুবা এসে
আকস্মিক উড়িয়ে দিল আমার সম্ভ্রম
যতেক আড়াল ছিল-তাও কুটিকুটি...
আমি তার নাভিতে চিবুকে
একে একে এঁকে দিলাম
রেনিডের মানচিত্র
গ্রীষ্মকালীন সেই ফ্যান্টাসিদুপুর
এর ঠিক নৈঋতে যেন বেজে উঠল শুধু
অবিকল জ্যোৎস্নাময় রাতের পুরাণ
গোলাপি হাওয়াটা আর বেয়াদপ জমকালো পায়জামা
আমাকে উতল সুরে
ডানে বাঁয়ে নেড়েচেড়ে
বেমক্কা বাজিয়ে দিল
পরিণত অঘ্রাণের মতো
মেঘলাঘরের গল্প
নিষেধের মায়াটুকু কাটিয়ে উঠলেই দক্ষিণের দরোজা খোলা
রোদ ঢুকে পড়বে চুপিচুপি খোসাওঠা তোশকের ভাঁজে। তারপর
শুধু তানপুরার তার ছুঁয়ে নিশ্চুপ বসে থাকা; তার আরও কিছু
পর থেকে শুধু গরাদ রঙের কথায় অকারণ মীড় লাগানোর
সেই একই খেলা।
গত ছ'সপ্তাহে একবারও এ ঘরের টেলিফোনটা বাজেনি খেয়ালে–
একটিবারের জন্য কেউই তেমন কোনও অক্ষর বুনে সামান্য
ক'লাইনের চিরকুটও ফেলে যায়নি ধুলোয় ভর্তি এই
জামার পকেটে...তবু ঘরের মাঝখানে দ্যাখো নিশ্চিত
পায়ের পাতা গুটিগুটি মেলেছে বন্ধনী; ঘরের কানাচটাও
সবজে শাড়ির মতো দিব্যি থতোমতো! সিরাপের শিশির
শেষে রঙিন স্বপ্নগুলো দুলে দুলে ভুলে যাচ্ছে আশমানি
গল্পের মোচড়...মাঝে মাঝে নড়ে উঠছে পুরানো পর্দাখানা
মৃদু মুদ্রাদোষে।
এই ঘরে শব্দহীন এই নিঃস্ব ধোঁয়াটে সন্ধ্যায় সে ঠিক
আসবে দেখো পায়েসের রঙে আর বাদামি কথায়...
ফুটফুটে বালিশের কোঁচকানো আড়মোড়া ভেঙে
তাহার হাতের ছাপ চিনে নেবে তোমার ওই যত্নের ছোঁয়াচ...
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন