শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৪

চারটি কবিতা / বেবী সাউ


দৃশ্য চিত্র 

ভিজে ওঠা মেঘেদের কে যেন
একা ফেলে গেছে
কে যেন না দেখার ভান
করে ডিঙিয়ে যাচ্ছে এক একটি মোরামের
রাস্তা !

শব্দ ছটফট করছে
আলো বলছে মুক্তি দাও

হাহাকার পাঠ করতে করতে আরও নিচু
হচ্ছে মাটির কৃষক
রাঙা কাকিমার খড়ি ওঠা দেহ

শিউলি বনে থাকে যে সাদা মনের
মেয়েটি
পিরিয়ডের আগে এত্ত সব কিছুই জানত না

এখনও জানে না



মাধুকরী


আয়ু ছেড়ে চলে যাচ্ছে যেসব আসবাব
আশ্চর্য মুগ্ধতায় সুইপার
মেয়েটি তুলে নিচ্ছে সেসব
আর এই জোড়া মরশুমে

জল নেই
ঘাম নেই

চিৎকারে জমে উঠছে
পৃথিবীর ভগ্নতম চানগৃহ






পূর্ণিমা


কলেজ থেকে ফেরার পথে চাঁদের
মুখোমুখি হলাম । আলোবাতাসের
সাথে দেখা হলো । রূপন বলে , চাঁদ
আসলে মেঘে আটকে পড়া ঘুড়ি । মৃত
আত্মা । আমি বিরসা সেতুকে বললাম চাঁদ
এনে দাও , সুবর্ণকে বললাম , চাঁদ এনে দাও।
কুঠিবাড়ি কালীমন্দিরের জিভ
থেকে রক্ত এনে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করব।
জীবন জীবন খেলব।
আমি হন্যে হয়ে সিকিউরিটির খোঁজ
করছি। আলতা পা খুঁজছি। দেখি,
অ্যাম্বুলেন্সের সিটে চাঁদ আর
আলো ছায়াখেলা খেলছে , জ্যান্ত
হচ্ছে পিরিয়ডের শুকনো দাগে ।



অতিক্রম


অনেকক্ষণ জেগে থাকার পরেও ঘুম
এল না, স্বপ্ন এল না।
হারিয়ে যাওয়া রাজুকাকু মনে পড়ল।
কোচিং সেন্টার মনে পড়ল,
লম্বা করিডোরের পর ফুটবল মাঠের
সৌন্দর্য মুগ্ধ করল তখন ।
আমি মশারি থেকে বেরিয়ে জল খেলাম,
অবশিষ্ট অ্যালপ্রাজোলাম ও। রাজুকাকুর
স্কুল নেচে উঠল ; আম্বি নিগমানন্দ
নেচে উঠল। আমি আমার হৃদযন্ত্র তোর
দিকে এগিয়ে দিচ্ছি, ছিঁড়ে ফেলা ফুসফুস
বিলিয়ে দিচ্ছি। ওই বেড়ে ওঠা হার্ট
বিটে বাইশে শ্রাবণ
হচ্ছে রজনীগন্ধা হচ্ছে। ঘুমের
মধ্যে দেখছি বিরসা সেতুর
মধ্যিখানে তোমার সাপমার্কা বাইক
দাঁড়িয়ে। কালো জুতো থেমে।

আমার ঘুম ভাঙছে না
অপেক্ষা ভাঙছে না

1 টি মন্তব্য: