কবিতারা যেখানে ঘুমায়
নিতান্ত
বৃহৎ মাছ নীচে থাকে,
ঘাই দেয়
মুহূর্তের,
আবারও গভীরে নেমে যায়।
দীর্ঘ যে
তালগাছ, সে-ও তার ছায়া নিয়ে সমুদ্রের গভীরে নামে না।
সেখানে
বাতাস আছে, বাতাসের আকুলতা নেই,
আছে শান্ত
নিবিড় প্রসার।
বৃহৎ মাছেরা
জানে, সেইখানে
শরীর ও
শরীরী-ছায়া মিশে একাকার।
এপিটাফ
কোনও দুঃখ
নেই, কোনও অনুতাপও নেই
অনেক তো
হাঁটা হল পথ...
কিছু দূর
ছিলে তো সঙ্গেই,
"যাই" বলতে এখন আর কোনও দুঃখ নেই, আর
কোনও দুঃখ নেই।
ভালো থেকো
রুপোলি বিষাদ, ভালো থেকো
বলে যাওয়া
অনুচিত বটে!
কে জানে কেমন থাকলে ভালো থাকা যায়!
ভালো থাকতে
বোলো না আমায়...
কাঁটার
ভিতরে হাঁটা মুগ্ধতার মতো
যেতে-যেতে
চলে যেতে হয়...
ভাবিনি
অতর্কিতে এসেছে সময়...
কোনও দুঃখ
নেই তাই অনুতাপও নেই
শুধু অগ্নি,
শুধু জল, গিলে ফেলতে চায়...
বিদ্যুৎ-চুল্লীতে
নয়, মরা গাছে,
কাঠের চুলায়,
অসংখ্য আঘাত করে, তিলে তিলে
ওরা যেন আমাকে পোড়ায়।
আরাম
জল...সে
কি স্বচ্ছতার দিকে বয়ে চলে?
নাকি নীল
স্বচ্ছতারা নিজে আসে জলের ভিতরে...
কেবলই শহর
চলে, গ্রাম যায়, নদী-নদী ঢেউয়ের দুধারে...
তাহলে জীবন
মানে জল, মানে স্বচ্ছতার দিকে যায়, নাকি
যায় স্বচ্ছতারা নদী-নদী জীবনের
দিকে?
এখনও যে
মেঘ, তারা, দিশাহারা, কোথায় হারাবে?
পাথরে,
বালির বুকে, নির্জল রাত্রি ঘনীভূত...
কোথাও এখনও
তবু আমি আছি, তুমি আছ...
আমাদের ভালোবাসা আছে...
রয়েছে শরীর
তবু আশরীর ক্লেদ অনুভূত...
অনুভূত
পাঁক, বিষ্ঠা, পক্ষীরূপ চেতনারা, হিম...
এখন কেবলই
ক্লান্ত বিবাদী অহং-নাম্নী
রাজরতি আপাত মহিম...
তবুও কোথাও
আছে আমাদের অচর্চিত নাম
যে জল কলুষপূর্ণ
সে তবে স্থবির
তার হন্যমান দেহ থেকে উঠে আসে
প্রতীকী আরাম।
তোমার প্রণয়
দৃশ্যত
সুঠাম গাছ চিরস্থায়ী নয়।
গাঢ় ও মৌলিক
বর্ণ রোদে পুড়ে, অন্ধকারে ভিজে
ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে যায়।
ফিকে হয়
তোমার প্রণয়।
নদী সরে
গেলে তার তটরেখা কেবলই অতীত–
আমারও ভিতরে
কাঁপে শীত...
কুকুর ছানার
মাকে দেখেছ কি স্তন দেয়! সেও
সামান্য
সময় গেলে ভুলে যায় সন্তানের মুখ...
সময়ের নিবিড়
অসুখ...
দৃশ্যত
সুঠাম গাছ চিরস্থায়ী নয়।
ঢেকে রাখি
তোমার প্রণয়...
খাপে ঢাকা
বাঁকা তলোয়ারে ধীরে ধীরে মরচে ধরে যায়...
নিজের গভীরে
আর কত নীচে লুকাব তোমায়!
খুউব ভালো লাগল প্রতিটি কবিতা
উত্তরমুছুন