শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৪

তিনটি কবিতা / ইন্দ্রজিৎ রায়


মাছের বাজার

মেহেন্দি গাছটা এত বড় হল কবে! দুদিন মেঘের পরে
আজ রোদ হল, গাছগুলো মরকুটে হয়ে গেছে শীতে, আজ
বড়দিন বলে মাছের বাজার ফুলে ফুলে লাফালাফি, মানে
মাছের ফুল ফুটেছে খুব। জল যেন এদের বাপের সম্পত্তি,
জাল ফেলছে আর তুলে তুলে বেচে দিচ্ছে, দেখো দিকিনি, আবার
অনামুখো বলে কিনা ঈশ্বর কোথায়, বিভূতি
কোথায়, মাছের বাজার বুঝি এইসব কথার জায়গা!
                   আজ দর্শন হল আমিও তো মাছ
না হোক, পোকা ছিলাম জলের, তুলে এনে ছেড়ে
দিলে এদের মাঝখানে। এরা কারা, মাছের থেকে
সাঁতার শেখেনি, গন্ধ এনেছে গায়ে কেবল,
                   মাছের চমৎকারি লাফ, গামলা থেকে 
ঠান্ডা নালার জলে, কার বাপের এইসমস্ত জল ও
বাগানের ছায়া। লরিচালক ও মালিকের ভক্তি আকুল, সে
ডাকে সাড়া দেয় চারফুটের ভেটকি ও শঙ্কর, মাছের
লরি পায়ের তলায় পিষে যায় আমাদের, মাছ
খেয়ে বেঁচে থাকা অমাছা লোক,
                   তোমারই টানে এখানে আসা হয়ে
যায়, মেহেন্দি গাছ আর মাছের বাজারের মাঝখানে
একটা রাস্তা, একটাই, পাশের হাসপাতালটা আর
মানুষের নেই, মাছেদের, মাঝখানে দুটো একটা
নুনজলের বোতল, ছুরি কাঁটা, ফুলে ফুলে, যেন
মাছের ফুল, কার বাপের জল, আর কে তুলে তুলে
বিক্রি করে করে, মাছ না খেতে পাওয়া
                   বাচ্চাগুলোকে মাছের ছবি চেনায়।।



বাকি দিনগুলো ৩

সাধুসঙ্গ বেশি ভালো না। ভালো না। এটা
আমার লেখা নয়, এটি সুইসাইড নোট,
এক নিরামিশাষীর। সকলে পড়ল এই
নোট, লাস্ট মিনিট সাজেশনের মতো করে। ভুলে
গেল। আমি ছাড়া

দাদুর এই নোট কেউ মনে
রাখেনি আজ। জৈষ্ঠের ন্যাড়া ছাতে, রাতভোরে একা
এলেই আমার মনে পড়ে। তারপর সেইদিনটা
সারাদিন সাধুসঙ্গ হয়, কতরকম অভাব, না চাইলেও
এই সব অর্ধউলঙ্গ সেলিব্রিটিগুলো, টেনে নিয়ে
যায় তাদের সাধনপীঠে

এরা কারা। গভীর রাতে রেডিও সিলন্ শুনতেন
আমার তান্ত্রিক, শ্মশানচারী দাদু। বলতেন বাকি
দিনগুলো আর ঈশ্বর একই জিনিস। শালা পাগলা



বাকি দিনগুলো ৫

একটা চাঁদ গেল। আরও কটা আসে আবার
বলার মতো, সেটাই সকাল থেকে ভাবছিলাম। জোনাকি
জন্মেছিল আজকের দিনে, যোধপুর পার্ক হাসপাতালে, ২২২
বি নং ঘরে, জোনাকি
কে? ক্লাস টেনে পড়া একটা মেয়ে, আমাকে তো চেনে কী
চেনে না, আজকে জোনাকির জন্মদিন।
ছোট বারান্দায় বা টিভিবাক্সোর সামনে, ঝিমোনো আমার
মাঝরাতের খেলা, আজ অনেকবছর। অচল ফুটবলার ও
মুষ্টিযোদ্ধাদের সঙ্গে, ঝিমোতে ঝিমোতে, আরও চাঁদ গলে
যায়, শেষ গাছগুলোর মাথা বেয়ে বেয়ে। জোনাকির
অনেক বন্ধু, লেঙটু পেঙটু বাচ্চা কত,

তাদের বাবারা ঠিক এমনটা নয়। এমনটা নয়।
সাদা ফটফটে চোখ তাঁদের, চাবুকের মতো সুস্থতা, জোনাকির
বাবার ঝুলবারান্দায়, বাঁকুড়া বসিরহাটের গামছা, গামছাবাবা

1 টি মন্তব্য: