শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৪

সূর্যমুখী / দোলনচাঁপা চক্রবর্তী


     প্রত্যেক বৃষ্টি আমি সনাতনে রাখি। 
রাখি মজদুর, শ্রমিক ও লেবার। ভ্যান গঘ
হাতে বোনা আসনে বাবু হয়ে বসে। ব্যথা হয়।
জন্মযন্ত্রণা। হাতে শিশু নিয়ে
খলখল শব্দে নদী উঠে আসে
এক কুশি রক্তের ভিতর। ছেঁড়া কান, বাক্স, চিঠি;
তুলো দেয়া বেতের ঝুড়িতে শিশু। শ্রমে
অধ্যুষিত উপত্যকা।
ভ্যান গখ ভুট্টাক্ষেত আঁকছেন।
পা গেঁথে আছে পুরনো নাড়িতে। ওর মাকে দেখো,
উপড়ে না যায়।

    দেহ সাজানো হচ্ছে জেনেও ব্যান্ডপার্টি সানাইয়ের সুর বাজিয়ে ফেলেছে ভুল করে। ভুলে যাওয়ার উৎসব লেগেছে জলে। উৎসব জানো তো? ছেলেপিলেরা ছোটো হতে থাকবে ক্রমশ, হাত বাড়াবে সমস্ত মেয়েদের সবকটি বয়সের দিকে। খলবল করে যেন ছোটো মাছের গায়ে অভ্রের কুচি। মোহনার জন্য প্রস্তুত নয় কেউ। নিটোল চামড়া গুটিয়ে যাওয়ার দাগ লেগে আছে নদীর জঙ্ঘায়। স্নেহহীন রক্ত ধারণ করে মাংস ঢাকছে নদী। জল দিয়ে, বুনো শামুকের খোল দিয়ে ফিরিয়ে দিচ্ছে নিঃসঙ্গের মৌতাত।
     গ্যারাজের রাস্তা আটকে বসে আছে সুডৌল বিড়াল। সঙ্গযাপন থেকে ডেকে এনেছে আমায়, মাছ দিতে হবে, দুধ দিতে হবে আরো, আশ্রয় দিতে হবে ঘরের কোণায়। কি করে বোঝাবো তাকে, ঝড় এভাবেই আসে। শোরগোল হয়ে। দাবি হয়ে, বঞ্চিত হয়ে। দরজায় ধাক্কা দেয়। আমাকেও ঝড় ভাবা যেতে পারে তবে? 
"বেখুদী লে গঈ কাঁহা হামকো
দের সে ইন্তেজার হ্যায় আপনা"*   (মীর ত্বকী মীর)
     শার্শিতে বেরং আলোর দাগ। জললন্ঠনে বিস্মৃত অবয়ব, নিপুণ মৃত্যুর ঘ্রাণ। মধ্যমার আংটি, নিজের উত্তরণকে চিনতে পারলো না। স্তব্ধতার স্বীকারোক্তি গুন গুন করে ঝাঁকিয়ে দেয় মৌমাছির আড্ডা, আটকাতে পারছি না অণুরণন। 
     আলতার ঋণ সহজেই স্বীকার করে নিচ্ছে আমায়, ফিরে আসার ডাকবাক্সে। ব্যাক্‌স্টেজে সেতারের সংকেত, পর্দা নামিয়ে দেয়ার ইচ্ছে বরাবর, ঘুণ ধরে যাওয়ার অভ্যাস বরাবর।  স্ট্রবেরির ক্ষেতে স্কার্টের মোহ ছিঁড়ে গেলো। সরাইখানায় ফেলে এসেছি শিশুমনস্কতা, তীব্র গির্জার দিকে ফিরিয়ে রাখার সেনাছাউনি।      

1 টি মন্তব্য: